দৈনন্দিন লেনদেনের ক্ষেত্রে নগদ টাকার ব্যবহার আমাদের অর্থনীতিতে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। হাতবদল হতে হতে কাগজের নোট বা পলিমার কারেন্সি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, মাঝখান থেকে ফেটে যাওয়া, অতিরিক্ত ময়লা হয়ে যাওয়া কিংবা আংশিক পুড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা বেশ স্বাভাবিক। অথচ দীর্ঘকাল ধরে জনসাধারণের একটি বড় অংশের ধারণা ছিল যে ছেঁড়া বা পুরোনো নোট পরিবর্তন করা একটি জটিল, ঝুমেলাপূর্ণ এবং একপ্রকার অসম্ভব ব্যাপার। সাধারণ মানুষ প্রায়শই এ ধরনের নোট নিয়ে ব্যাংকে গিয়ে হয়রানির শিকার হতেন কিংবা বাধ্য হয়ে নামমাত্র মূল্যে বা দালালের শরণাপন্ন হয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতেন। এই জনদুর্ভোগ লাঘব করতে এবং মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথা বাংলাদেশ ব্যাংক সুনির্দিষ্ট ও আধুনিক নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রবর্তित ‘নোট রিফান্ড রেগুলেশন্স’ বা মুদ্রা ফেরত নীতিমালা অনুযায়ী ছেঁড়া, ফাটা ও ত্রুটিযুক্ত নোট পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি আগের তুলনায় অনেক বেশি সহজ, স্বচ্ছ এবং সাধারণ মানুষের নাগালে নিয়ে আসা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের যেকোনো শাখায় ছেঁড়া, ফাটা, ময়লাযুক্ত বা অপ্রচলনযোগ্য নোট পরিবর্তনের সেবা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আগে এই সেবার পরিধি মূলত নির্দিষ্ট কিছু কাউন্টার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শাখা কার্যালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক নীতিমালা অনুসারে, কোনো গ্রাহকের কাছে থাকা নোটের ৯০ শতাংশ বা তার বেশি অংশ যদি অক্ষত বা ঠিক থাকে, তবে সেই নোটের বিপরীতে সম্পূর্ণ বা পূর্ণ বিনিময় মূল্য পাওয়ার অধিকার ওই গ্রাহকের রয়েছে। অর্থাৎ, একটি নোটের সামান্য কিছু অংশ ছিঁড়ে গেলে বা নষ্ট হলেও যদি তার মূল কাঠামোর অন্তত নব্বই শতাংশ অংশ সঠিকভাবে বিদ্যমান থাকে, তবে যেকোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা থেকে তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিবর্তন করে সমমূল্যের নতুন বা ব্যবহার উপযোগী নোট গ্রহণ করা সম্ভব। ব্যাংকের শাখাগুলো এই সেবা দিতে অস্বীকার করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ক্ষমতাবলে কঠোর প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ব্যাংকের শাখায় দৃশ্যমান স্থানে "ছেঁড়া-ফাটা বা ত্রুটিপূর্ণ নোট বিনিময় করা হয়" মর্মে নোটিশ ঝুলিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে গ্রাহকরা খুব সহজেই সেবাটি গ্রহণ করতে পারেন।
তবে সব ছেঁড়া নোট বা ক্ষতিগ্রস্ত নোট তাৎক্ষণিকভাবে পরিবর্তনযোগ্য নয়। যেসব নোটের ৯০ শতাংশের কম অংশ অক্ষত রয়েছে বা যেগুলোর অবস্থা বেশ শোচনীয়, সেগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংজ্ঞায় ‘দাবিযোগ্য নোট’ বা ‘ক্লেইমেবল নোট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই ধরনের নোট নিয়ে কোনো গ্রাহক সাধারণ ব্যাংকের শাখায় গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে ক্যাশ কাউন্টার থেকে নগদ টাকা প্রদান করবে না। এক্ষেত্রে গ্রাহককে একটি নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে ব্যাংক শাখার মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের এই আবেদনপত্রগুলো সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠিয়ে দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রা যাচাই ও পরিশোধন কমিটি বা সংশ্লিষ্ট বিভাগ নোটগুলোর কন্ডিশন যাচাই-বাছাই করে এবং বিধিমালা অনুযায়ী সেগুলোর কত শতাংশ মূল্য পরিশোধ করা সম্ভব তা নির্ধারণ করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে সাধারণত সর্বোচ্চ আট সপ্তাহের মধ্যে এই ধরনের দাবির টাকা পরিশোধ করা হয়ে থাকে এবং গ্রাহক তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কিংবা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেই অর্থ ফেরত পান।
নোটের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রার ওপর ভিত্তি করে এর বিনিময় মূল্যের একটি গাণিতিক বা শতাংশভিত্তিক হিসাব রয়েছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী নোটের অবশিষ্টাংশের পরিমাণ যত বেশি থাকবে, ফেরতের হারও তত বেশি হবে। সাধারণত ৯০ শতাংশ বা তার বেশি অংশ অক্ষত থাকলে শতভাগ মূল্য প্রদান করা হয়। কিন্তু অংশবিশেষ যদি এর চেয়ে কম থাকে—যেমন ৭৫ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত অংশ সুরক্ষিত থাকলে নির্দিষ্ট হারে এবং তার নিচে ৫১ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত অংশ টিকে থাকলে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য ফেরতের বিধান রয়েছে। তবে কোনো নোটের মূল অংশের ৫১ শতাংশের কম অংশ যদি অবশিষ্ট থাকে, তবে সেটির বিপরীতে সাধারণত কোনো মূল্য পরিশোধ করা হয় না এবং সেই দাবি সরাসরি বাতিল বলে গণ্য করা হয়। একই সঙ্গে মুদ্রার নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যেমন—জলছাপ, নিরাপত্তা সুতা, এবং নির্দিষ্ট সিরিয়াল নম্বরের উপস্থিতি যাচাই করার পরই কেবল দাবির উপযুক্ততা নির্ধারণ করা হয়।
আগুনে পোড়া নোট বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কারেন্সির ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি কিছুটা আলাদা এবং তুলনামূলক সংবেদনশীল। আগুনে পোড়া নোট বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সাধারণ শাখা থেকে পরিবর্তন করা যায় না, কারণ এই নোটগুলোর ওপর সাধারণ কাউন্টারে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকে না। পোড়া নোটের ক্ষেত্রে গ্রাহককে সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় বা সংশ্লিষ্ট শাখা অফিসে আবেদন করতে হয়। এই প্রক্রiyay আবেদনের সাথে স্থানীয় পুলিশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি বা জিডি এবং পোড়ার কারণ ও পরিমাণ উল্লেখ করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষজ্ঞ কমিটি পোড়া নোটের অবশিষ্টাংশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এবং স্ক্যানিং মেশিনের মাধ্যমে এর সত্যতা যাচাই করে দেখে যে নোটটির কত শতাংশ অক্ষত রয়েছে। যাচাইয়ের পর যদি দেখা যায় পর্যাপ্ত অংশ এবং প্রয়োজনীয় সিকিউরিটি ফিচার বা সিরিয়াল নম্বর দৃশ্যমান রয়েছে, তবে নিয়ম অনুযায়ী সেই পোড়া নোটের বিনিময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধের অনুমোদন দেওয়া হয়।
মুদ্রা বিনিময়ের এই পুরো ব্যবস্থার মধ্যে কিছু কঠোর আইনি সতর্কতা ও নিয়মও জুড়ে দেওয়া হয়েছে যাতে কোনো ধরনের জালিয়াতি বা অসদুপায় অবলম্বনের সুযোগ না থাকে। কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো নোট কাটেন, ফুটো করেন বা বিকৃত করেন, তবে সেই নোট পরিবর্তনের কোনো আইনি সুযোগ নেই এবং তা সরাসরি প্রত্যাখ্যাত হয়। এছাড়া একাধিক আলাদা নোটের ভিন্ন ভিন্ন অংশ জোড়া দিয়ে একটি সম্পূর্ণ নোট তৈরি করে বা স্কচটেপ ও আঠা লাগিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে তা বদলানোর চেষ্টা করা হলে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই ধরনের প্রতারণামূলক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কেবল নোটটি বাজেয়াপ্তই করতে পারে না, বরং প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পূর্ণ এখতিয়ার তাদের রয়েছে। একইভাবে কোনো নোটের গায়ে যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় উসকানিমূলক, রাজনৈতিক বা প্রচারণামূলক স্লোগান লেখা থাকে, তবে সেই নোটগুলোর রিফান্ড দাবি সম্পূর্ণ বাতিল বলে গণ্য করা হয়।
সামগ্রিকভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, ছেঁড়া-ফাটা টাকা পরিবর্তনের আধুনিক এই ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের অর্থ লেনদেনের ঝুঁকি ও দুশ্চিন্তা অনেকাংশেই কমিয়ে দিয়েছে। নাগরিকেরা এখন আর কোনো দালাল চক্রের হাতে জিম্মি না হয়ে বা আর্থিক লোকসানের শিকার না হয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে খুব সহজেই তাদের ক্ষতিগ্রস্ত নোট পরিবর্তন করতে পারছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মনিটরিং এবং প্রতিটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা স্তরে এই সেবা বাধ্যতামূলক করার ফলে মুদ্রা ব্যবস্থার শৃঙ্খলা যেমন বজায় রয়েছে, তেমনি সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা ও সঠিক মূল্যায়নও নিশ্চিত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের যেকোনো শাখায় ছেঁড়া, ফাটা, ময়লাযুক্ত বা অপ্রচলনযোগ্য নোট পরিবর্তনের সেবা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আগে এই সেবার পরিধি মূলত নির্দিষ্ট কিছু কাউন্টার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শাখা কার্যালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক নীতিমালা অনুসারে, কোনো গ্রাহকের কাছে থাকা নোটের ৯০ শতাংশ বা তার বেশি অংশ যদি অক্ষত বা ঠিক থাকে, তবে সেই নোটের বিপরীতে সম্পূর্ণ বা পূর্ণ বিনিময় মূল্য পাওয়ার অধিকার ওই গ্রাহকের রয়েছে। অর্থাৎ, একটি নোটের সামান্য কিছু অংশ ছিঁড়ে গেলে বা নষ্ট হলেও যদি তার মূল কাঠামোর অন্তত নব্বই শতাংশ অংশ সঠিকভাবে বিদ্যমান থাকে, তবে যেকোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা থেকে তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিবর্তন করে সমমূল্যের নতুন বা ব্যবহার উপযোগী নোট গ্রহণ করা সম্ভব। ব্যাংকের শাখাগুলো এই সেবা দিতে অস্বীকার করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ক্ষমতাবলে কঠোর প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ব্যাংকের শাখায় দৃশ্যমান স্থানে "ছেঁড়া-ফাটা বা ত্রুটিপূর্ণ নোট বিনিময় করা হয়" মর্মে নোটিশ ঝুলিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে গ্রাহকরা খুব সহজেই সেবাটি গ্রহণ করতে পারেন।
তবে সব ছেঁড়া নোট বা ক্ষতিগ্রস্ত নোট তাৎক্ষণিকভাবে পরিবর্তনযোগ্য নয়। যেসব নোটের ৯০ শতাংশের কম অংশ অক্ষত রয়েছে বা যেগুলোর অবস্থা বেশ শোচনীয়, সেগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংজ্ঞায় ‘দাবিযোগ্য নোট’ বা ‘ক্লেইমেবল নোট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই ধরনের নোট নিয়ে কোনো গ্রাহক সাধারণ ব্যাংকের শাখায় গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে ক্যাশ কাউন্টার থেকে নগদ টাকা প্রদান করবে না। এক্ষেত্রে গ্রাহককে একটি নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে ব্যাংক শাখার মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের এই আবেদনপত্রগুলো সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠিয়ে দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রা যাচাই ও পরিশোধন কমিটি বা সংশ্লিষ্ট বিভাগ নোটগুলোর কন্ডিশন যাচাই-বাছাই করে এবং বিধিমালা অনুযায়ী সেগুলোর কত শতাংশ মূল্য পরিশোধ করা সম্ভব তা নির্ধারণ করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে সাধারণত সর্বোচ্চ আট সপ্তাহের মধ্যে এই ধরনের দাবির টাকা পরিশোধ করা হয়ে থাকে এবং গ্রাহক তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কিংবা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেই অর্থ ফেরত পান।
নোটের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রার ওপর ভিত্তি করে এর বিনিময় মূল্যের একটি গাণিতিক বা শতাংশভিত্তিক হিসাব রয়েছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী নোটের অবশিষ্টাংশের পরিমাণ যত বেশি থাকবে, ফেরতের হারও তত বেশি হবে। সাধারণত ৯০ শতাংশ বা তার বেশি অংশ অক্ষত থাকলে শতভাগ মূল্য প্রদান করা হয়। কিন্তু অংশবিশেষ যদি এর চেয়ে কম থাকে—যেমন ৭৫ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত অংশ সুরক্ষিত থাকলে নির্দিষ্ট হারে এবং তার নিচে ৫১ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত অংশ টিকে থাকলে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য ফেরতের বিধান রয়েছে। তবে কোনো নোটের মূল অংশের ৫১ শতাংশের কম অংশ যদি অবশিষ্ট থাকে, তবে সেটির বিপরীতে সাধারণত কোনো মূল্য পরিশোধ করা হয় না এবং সেই দাবি সরাসরি বাতিল বলে গণ্য করা হয়। একই সঙ্গে মুদ্রার নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যেমন—জলছাপ, নিরাপত্তা সুতা, এবং নির্দিষ্ট সিরিয়াল নম্বরের উপস্থিতি যাচাই করার পরই কেবল দাবির উপযুক্ততা নির্ধারণ করা হয়।
আগুনে পোড়া নোট বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কারেন্সির ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি কিছুটা আলাদা এবং তুলনামূলক সংবেদনশীল। আগুনে পোড়া নোট বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সাধারণ শাখা থেকে পরিবর্তন করা যায় না, কারণ এই নোটগুলোর ওপর সাধারণ কাউন্টারে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকে না। পোড়া নোটের ক্ষেত্রে গ্রাহককে সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় বা সংশ্লিষ্ট শাখা অফিসে আবেদন করতে হয়। এই প্রক্রiyay আবেদনের সাথে স্থানীয় পুলিশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি বা জিডি এবং পোড়ার কারণ ও পরিমাণ উল্লেখ করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষজ্ঞ কমিটি পোড়া নোটের অবশিষ্টাংশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এবং স্ক্যানিং মেশিনের মাধ্যমে এর সত্যতা যাচাই করে দেখে যে নোটটির কত শতাংশ অক্ষত রয়েছে। যাচাইয়ের পর যদি দেখা যায় পর্যাপ্ত অংশ এবং প্রয়োজনীয় সিকিউরিটি ফিচার বা সিরিয়াল নম্বর দৃশ্যমান রয়েছে, তবে নিয়ম অনুযায়ী সেই পোড়া নোটের বিনিময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধের অনুমোদন দেওয়া হয়।
মুদ্রা বিনিময়ের এই পুরো ব্যবস্থার মধ্যে কিছু কঠোর আইনি সতর্কতা ও নিয়মও জুড়ে দেওয়া হয়েছে যাতে কোনো ধরনের জালিয়াতি বা অসদুপায় অবলম্বনের সুযোগ না থাকে। কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো নোট কাটেন, ফুটো করেন বা বিকৃত করেন, তবে সেই নোট পরিবর্তনের কোনো আইনি সুযোগ নেই এবং তা সরাসরি প্রত্যাখ্যাত হয়। এছাড়া একাধিক আলাদা নোটের ভিন্ন ভিন্ন অংশ জোড়া দিয়ে একটি সম্পূর্ণ নোট তৈরি করে বা স্কচটেপ ও আঠা লাগিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে তা বদলানোর চেষ্টা করা হলে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই ধরনের প্রতারণামূলক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কেবল নোটটি বাজেয়াপ্তই করতে পারে না, বরং প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পূর্ণ এখতিয়ার তাদের রয়েছে। একইভাবে কোনো নোটের গায়ে যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় উসকানিমূলক, রাজনৈতিক বা প্রচারণামূলক স্লোগান লেখা থাকে, তবে সেই নোটগুলোর রিফান্ড দাবি সম্পূর্ণ বাতিল বলে গণ্য করা হয়।
সামগ্রিকভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, ছেঁড়া-ফাটা টাকা পরিবর্তনের আধুনিক এই ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের অর্থ লেনদেনের ঝুঁকি ও দুশ্চিন্তা অনেকাংশেই কমিয়ে দিয়েছে। নাগরিকেরা এখন আর কোনো দালাল চক্রের হাতে জিম্মি না হয়ে বা আর্থিক লোকসানের শিকার না হয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে খুব সহজেই তাদের ক্ষতিগ্রস্ত নোট পরিবর্তন করতে পারছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মনিটরিং এবং প্রতিটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা স্তরে এই সেবা বাধ্যতামূলক করার ফলে মুদ্রা ব্যবস্থার শৃঙ্খলা যেমন বজায় রয়েছে, তেমনি সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা ও সঠিক মূল্যায়নও নিশ্চিত হয়েছে।